মেঘা প্রিন্সিপ্যাল কে বললো, স্যার আপনি কি রবিকে কিছু বলবেন। ও আমায় এতো বিরক্ত করে তারপরও আপনারা ওকে কলেজ থেকে বের করে দিচ্ছেন না
প্রিন্সিপ্যালঃ কেনো বের করে দিতে পারছি না তা তুমিও ভালো জানো। আচ্ছা তোমার বাবা আর রবির বাবা তো বন্ধুও তুমি তোমার বাবাকে এসব জানাতে পারো।
মেঘাঃ বললে হয়তো রবির বাবাকে কিছু বলতে পারে তাহলে হয়তো তাদের বন্ধুত্বও নষ্ট হয়ে যেতে পারে সেই ভয়েই তো কিছু বলি না
প্রিন্সিপ্যালঃ তোমার বাবাকেই বলা উচিত। এভাবে আর কতদিন চলবে।
মেঘা আর ওর বন্ধুরা প্রিন্সিপ্যালের
মেঘা আর ওর বন্ধুরা সবাই একসাথে আড্ডা দিচ্ছে হঠাৎ রবি এসে বললো, প্রিন্সিপ্যালকে
মেঘাঃ তুই কেনো বুঝতে পারছিস না আমি তোকে ভালোবাসি না তারপরও কেনো আমায় বিরক্ত করছিস?
রবিঃ বিরক্ত করছি এটা কেনো বলছো। আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তাই তো তোমার কাছে আসি। আর তুমি যে বারবার প্রিন্সিপ্যালের
আয়ানঃ রবি তুই কিন্তু বেশি বেশি করছিস এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।
রবিঃ আমি তো ভয়ে পেয়ে গেছি প্লিজ আমাকে মাফ করে দেন। হাহা তোরা আবার কি করবি রে
মেঘাঃ মার খেতে না চাইলে এখান থেকে যা। আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নিস না
রবিঃ হাহা এরকম করে বলছো কেনো। তোমাকে ভালোবাসি বলেই তো এসব করি
রবি এই কথা বলার পরই মেঘার বন্ধুরা ওকে মারতে লাগলো। রবি বুঝতে পারছে না ওরা হকিস্টিক কোথায় পেলো তারমানে আগে থেকেই ওদের পরিকল্পনা করা ছিলো।
মেঘার বন্ধুরা রবিকে ধরে নিয়ে গেলো। একটা রুমের ভিতর নিয়ে রাখলো তারপর সবাই মিলে মারতে লাগলো।
রবির বন্ধু্রা সবাই একসাথে আড্ডা দিচ্ছে হঠাৎ কেও দৌড়ে এসে ওদের বললো, রবিকে ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এর ছেলেরা মারতেছে । ওরা দৌড়ে গেলো, রবিকে মাঠের ভিতরে পরে থাকতে দেখলো। রবিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো
অন্যদিকে মেঘার বন্ধুরা ভাবছে রবিকে উচিত শিক্ষা দিতে পেরেছে। কিন্তু মেঘা ভাবছে অন্যকিছু। মেঘার বন্ধুরা ওকে বললো, কি হলো তুই চুপ করে আছিস কেনো?
মেঘাঃ না মানে রবিকে মারাটা কি ঠিক হলো?
আয়ানঃ কি বলছিস এসব? ও তোকে এতো বিরক্ত করছে প্রিন্সিপ্যালকে
মেঘাঃ ও একটা জেদি ছেলে কখনও কারও কথা শুনে না। যতবারই প্রিন্সিপ্যালকে
ইমনঃ তো আমরা কি চুপ করে থাকবো নাকি। এতো চিন্তা করিস না তো। সামনে আমাদের কি কি প্লান আছে ওইটা চিন্তা কর।
বিকালে মেঘা আর ওর বন্ধুরা ঘুরতে গেলো। নদীর পাড়ে বসে আছে ওরা। কেও গিটার বাজাচ্ছে আর সবাই একসাথে গান গাইছে।
হঠাৎ একটা ছোট মেয়ে মেঘার কাছে আসলো । মেয়েটা ফুল বিক্রি করে। নদীর পাড়ে প্রায় সময়ই দেখা পাওয়া যায় তাই মেঘা মেয়েটাকে মোটামুটি চিনে
মেয়েটা মেঘার কাছে এসে একটা গোলাপ দিলো আর বললো, আপু এক ভাইয়া আপনাকে এটা দিতে বললো, মেঘা ভাবছে ওকে গোলাপ কে দিবে। রবির তো দেওয়ার কথা না আর ও দিলেও নিজে এসে দিবে অন্য কাউকে দিয়ে পাঠাবে না
মেঘা গোলাপটা নিয়ে মেয়েটাকে বললো, তোমাকে এটা কে দিতে বলেছে?
-- এক ভাইয়া আপনাকে এটা দিতে বললো
মেঘাঃ সে এখন কোথায় আছে তুমি জানো?
-- না আপু। সে আপনাকে এটা দিতে বলে চলে গেছে। এটা বলে মেয়েটা চলে গেলো।
মেঘা গোলাপটার সাথে একটা চিরকুট দেখতে পেলো। চিরকুটটা খুলে পড়তে লাগলো মেঘা
"ফুলের মতই নিষ্পাপ আর সুন্দর তুমি, তোমাকে দেখলে নিজেকে হারিয়ে ফেলি জানি না এটা ভালোবাসা কিনা যদি হয় তাহলে আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি "
শেষে লেখা, অপিরিচিত একজন
মেঘা বুঝতে পারছে না এটা কে পাঠালো। হঠাৎ মেঘার ম্যাসেজগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। মেঘাকে ১৫ দিন পর পর আলাদা আলাদা নাম্বার থেকে কেও ম্যাসেজ পাঠায়। কবিতার মত কিছু লেখা থাকে তাতে। এরকম ৩/
আর আজকে এই গোলাপ দিলো আবার কেও। এই দুইটার সাথে কি কোনো সংযোগ আছে নাকি আলাদা আলাদা ব্যাক্তি।
মেঘাকে চুপ থাকতে দেখে ওর বন্ধুরা বললো,
ঐশিঃ এতো ভাবিস না তো। কত ছেলেই তো তোকে গোলাপ দিলো। আর আজকে রোজ ডে তাই হয়তো দিয়েছে।
চলবে---
