কলেজ ক্যাম্পাসে বাইকের উপর বসে সিগারেট খাচ্ছি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ কেও এসে বললো, ভাই মেঘা তো একটা ছেলের হাত ধরে কথা বলতেছে। সিগারেটটা ফেলে হাতে লাঠি নিয়ে ছেলেটার কাছে গেলাম।
ছেলেটার কাছে গিয়ে ওকে কিছু বলতে যাবো তখনই মেঘা বললো, এখানেও গুন্ডামি শুরু করে দিয়েছিস। তুই কি আমাকে একটুও শান্তিতে থাকতে দিবি না। তোর জন্য আমার নিজের কোনো স্বাধীনতা নাই।
রবিঃ এরকম করে বলছো কেনো? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি তাইতো তোমার সাথে অন্য কাউকে সয্য করতে পারি না।
মেঘাঃ তোকে আর কত বার বলবো আমি তোকে ভালোবাসি না। তারপরও কেনো তুই বুঝতেছিস না। ভালোবাসা তো দূরে থাক তোর ছায়াও আমি দেখতে চাই না
রবিঃ হ্যা জানি হাজার বার তুমি বলেছো আমায় ভালোবাসো না। আর কত বার বলবে এই একিই কথা। এখন ভালোবাসি বললেই তো হয়
মেঘাঃ উফ! ওই তোর কি কোনো লজ্জা- শরম নাই। তোকে এতো বলি তাও তুই আমাকে বিরক্ত করিস।
রবিঃ ভালোবাসলে সবকিছু সয্য করা যায়। তুমি আমাকে ভালোবাসো তারপর দেখবা তুমিও আমার সব পাগলামো সয্য করতে পারবা।
মেঘাঃ সাইকো তুই একটা। তোর জন্য কলেজে কেও আমার সাথে কথা বলতে আসে না। সবাই তো আমারে দেখলেই দৌড়ে চলে যায়। কেনই বা বলবে সবাইকেই তো মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিস।
রবিঃ ছেলেদের সাথে কথা বলার কোনো দরকার নেই। যে ছেলে তোমার সাথে কথা বলবে তার অবস্থা খারাপ করে দিবো।
ওর কত বড় সাহস তোমার হাত ধরে। আজকে তো ওকে মেরেই ফেলবো। যেখানে তোমার সাথে কোনো ছেলে কথা বললে আমি সয্য করতে পারি না সেখানে ও তোমার হাত ধরে।
ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-- বিশ্বাস করেন ভাইয়া আমি ইচ্ছা করে ধরিনি ওর কাছ থেকে বই নিতে গেছিলাম তখন ওর হাত লেগে যায়। আমাকে মাফ করে দিন ভাইয়া আমি আর কখনও ওর সাথে কথা বলবো না।
রবিঃ তোকে এখন কিছু না বলে ছেড়ে দিলে অন্য ছেলেরাও ওর সাথে কথা বলতে সাহস পাবে তাই তোকে তো শাস্তি পেতেই হবে।
মেঘাঃ ওর কিছু করলে ভালো হবে না কিন্তু বলে দিলাম। ওকে ছেড়ে দে
রবিঃ তোমার কথা কেনো শুনবো তুমি তো আমাকে ভালোবাসো না।
মেঘাঃ প্লিজ ওকে ছেড়ে দে।
রবিঃ আচ্ছা যাও ছেড়ে দিলাম।
মেঘাঃ একদিন ঠিকই তুই পস্তাবি। আমি কখনও তোকে ভালোবাসবো না ।
রবিঃ কেনো বাসবে না? তোমার তো কোনো বয়ফ্রেন্ডও নেই তাহলে আমায় ভালোবাসবে না কেনো? আমি আর কি করলে তুমি আমায় ভালোবাসবে বলো
মেঘাঃ তোর কিছু করতে হবে না। আমি তোকে কখনই ভালোবাসবো না।
এটা বলে মেঘা চলে গেলো। ভাবতেছি মেঘা আমায় কেনো ভালোবাসে না। ছোটবেলা থেকে মেঘাকে ভালোবাসি আর ও শুধু আমাকে অবহেলাই করে এসেছে।
পাশাপাশি বাসা হওয়াতে ছোটবেলা থেকেই মেঘার সাথে পরিচয়। মেঘার বাবা আর আমার বাবা ভালো বন্ধুও বটে।
রবি আর মেঘার ডিপার্টমেন্ট ও আলাদা। রবি একাউন্টিং এ আর মেঘা ইংরেজি। পুরো কলেজ জানে এই দুই ডিপার্টমেন্টের শত্রুতার কথা। একমাএ রবিই ব্যাতিক্রম
মেঘা বিরক্তিভাব নিয়ে ওর বন্ধুদের কাছে আসলো। মেঘাকে দেখে ওর বন্ধুরা বললো, কি হয়েছে তোর?
মেঘাঃ কি আর হবে? ওই বদসাইশ ছেলেটা আমার জিবনটা নরক বানিয়ে দিয়েছে। ওর জন্য কোথাও গিয়ে শান্তি নাই
আয়ানঃ প্রিন্সিপালের কাছে বিচার দে।
মেঘাঃ কতবার দিবো বিচার। ওকে তো কলেজ থেকেও বের করে দিচ্ছে না
আয়ানঃ এবার আমরা সবাই যাবো তোর সাথে। এভাবে আর কতদিন ওর অত্যাচার সয্য করবি। আজকেই এর একটা সমাধান করতে হবে
মেঘা আর ওর বন্ধুরা প্রিন্সিপালের কাছে বিচার দিতে গেলো। আর অন্যদিকে রবি বসে বসে ওর বন্ধুদের কথা শুনছে। মনে হচ্ছে যেনো ওর কানে তুলা দেওয়া তাই ওরা যা বলছে ও না শুনার ভান করে বসে আছে।
রিদয়ঃ তোর জন্য তো কলেজে আমাদের কোনো মান- সম্মানই আর বেঁচে নেই।
রবিঃ আমি আবার কি করলাম?
চলবে---
